বাংলাদেশে এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ কতটি সিম রাখা যাবে, নতুন নির্দেশনা কী, নিজ নামে কতটি সিম আছে যাচাই করবেন কীভাবে, অতিরিক্ত সিম হলে করণীয় কী
এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ সিম: বিস্তারিত নিয়ম ও করণীয়
বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল সিম নিবন্ধকরণ ও ব্যবহারে হচ্ছে এক নতুন সময়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ঘোষণা করেছে যে, এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ সিম রাখা যাবে – অর্থাৎ একজন ব্যক্তি একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি সিম নিবন্ধন করে রাখতে পারবেন না। Jagotiknews+2computerbichitra.com+2
বর্তমান নিয়ম কি
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, একটি এনআইডির নামে সর্বোচ্চ ১০টি সিম সক্রিয় থাকতে পারবে। Jagotiknews+1 আগের সময়ে একজন নাগরিক ১৫টি সিম পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারতেন। BangladeshTimes
৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের পর যারা নামের বিপরীতে ১০টির বেশি সিম ছিল তাদের অতিরিক্ত সিম নিজে বাতিল করতে বলা হয়েছে। Dhaka Mail+1
কেন এই নিয়ম আনা হলো
১. একাধিক সিম নিবন্ধনের ফলে সাইবার প্রতারণা, ভুয়া আইডি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। computerbichitra.com+1
২. নিবন্ধিত সিম ও ব্যবহারকারীর তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ঝামেলা হয়েছে। অতিরিক্ত সিম ব্যবহারের কারণে অপারেটরদের জন্যও সিম ট্র্যাকিং কঠিন হয়ে পড়েছে।
৩. নির্বাচন ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাজকে সহায়তা করতেই এই সীমা আনার পরিকল্পনা রয়েছে। BangladeshTimes
নিজের নামে কতটি সিম আছে জানবেন কীভাবে
- আপনার মোবাইল ফোন থেকে *16001# ডায়াল করুন। আপনার NID-এর শেষ চার অংক লিখে Send করুন। এতে আপনি জানতে পারবেন মিন কতটি সিম নিবন্ধিত আছে। computerbichitra.com+1
- অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে আপনার সিম নিবন্ধন তথ্য জানতে পারেন।
- অনলাইন পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে- যদি অপারেটর সে সুবিধা দেয়- আপনার নিবন্ধিত সিম খুঁজে দেখতে পারেন।
অতিরিক্ত সিম থাকলে করণীয়
- যদি আপনার নামে ১০টির বেশি সিম নিবন্ধিত হয়, তাহলে দ্রুত আপনার অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে জেনে নিন কোন সিম আপনার রাখতে হবে ও কোন সিম ডি-রেজিস্টার করতে হবে।
- সিম হস্তান্তর করার ক্ষেত্রে নতুন মালিকের তথ্য, এনআইডি মিলিয়ে নেয়া জরুরি।
- ডি-রেজিস্টার করার আগে সিম-কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত যে কোন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সেটআপ আছে- সেগুলো আগে রিমুভ বা ট্রান্সফার করুন। কারণ সিম বাতিল হলে সেই ফোন নম্বর আর চালু হবে না।
- নিয়মিত যাচাই করে রাখুন আপনার সংখ্যাটি আইনসিদ্ধ পরিসরে আছে কিনা। ভবিষ্যতে সীমা আরও কমতে পারে।
ভবিষ্যতে কি পরিবর্তন আসতে পারে
বর্তমানে সীমা ১০টি হলেও, খবর রয়েছে আগামী বছর (২০২৬-এর জানুয়ারি থেকে) থেকে এটি সর্বোচ্চ ৫টি সিম রাখা যাবে। morningpost.com.bd+1
এটি ধাপে ধাপে কার্যকর হবে এবং সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য হয়তো দুই থেকে তিনটি সিমেই সীমাবদ্ধ করা। BangladeshTimes
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQs)
প্রশ্ন ১: আমার নামে বর্তমানে কতটি সিম নিবন্ধিত আছে?
উত্তর: আপনার মোবাইলে *16001# ডায়াল করে, আপনার NID-এর শেষ চার সংখ্যা দিয়ে সিমের সংখ্যা জানতে পারবেন।
প্রশ্ন ২: যদি আমার নামে ১০টির বেশি সিম থাকে তাহলে কি হবে?
উত্তর: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের পর অতিরিক্ত সিম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হতে পারে। অতিরিক্ত সিম আপনার স্থিত নম্বর বা পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। The Daily Ittefaq
প্রশ্ন ৩: অতিরিক্ত সিম ডি-রেজিস্টার করার জন্য কি খরচ আছে?
উত্তর: সাধারণত অপারেটরের নির্ধারিত ফি থাকে বা থাকতে পারে; সিম বাতিল বা হস্তান্তর করার আগে আপনার অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে খরচ জানতে হবে।
প্রশ্ন ৪: ভবিষ্যতে কতটি সিম রাখা যাবে?
উত্তর: নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৬-এর জানুয়ারি থেকে সর্বোচ্চ ৫টি সিম রাখা যাবে বলেছে বিটিআরসি। morningpost.com.bd+1
প্রশ্ন ৫: আমি কি নিজের নামে থাকা সিম হস্তান্তর করতে পারি কারো কাছে?
উত্তর: হ্যাঁ, অপারেটরের নিয়ম মেনে হস্তান্তর করা সম্ভব। সাধারণভাবে নতুন মালিকের এনআইডি, সিমের তথ্য প্রয়োজন হবে।
শেষ কথা
আপনার নামে সিমের সংখ্যা এখন শুধু আপনার ব্যক্তিগত বিষয় নয়- এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা আইন ও নিয়মের সঙ্গে যুক্ত। নিয়মিত যাচাই করে রাখুন আপনি “এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ সিম” সীমার মধ্যে আছেন কিনা। অতিরিক্ত সিম থাকলে সময়মতো ব্যবস্থা নিন। নিরাপদ ও সুনিয়ন্ত্রিত মোবাইল সিম ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোই আজকের বিষয়।






